গ্রন্থের মূল বার্তা ও মর্মস্পর্শী ঘটনা:
- বিলাসিতা থেকে ভিক্ষাবৃত্তি: এই বইটিতে বেশির ভাগ রাজ পরিবারের মহিলাদের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে, যারা প্রথম জীবন বিলাসিতায়, আরাম-আয়েশে ডুবে থাকলেও শেষ জীবনে ভিখারী হয়ে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে জীবনের ইতি টেনেছে। অনেকে শেষ জীবনে পাগলের পরিচিতি লাভ করেছে। অনেকের প্রথম জীবনের রেশমের কাপড়ে জড়িয়ে ঘুমালেও শেষ জীবনে গা ঢাকার ছেঁড়া কাঁথাও মেলে নি।
- সাকীনা খানমের মর্মন্তুদ কাহিনি: লেখক সাকীনা খানমের মতো একজন রাজ-পরিবারের পুত্রবধূর মর্মান্তিক দুর্দশার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন। যেদিন তিনি প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন, তার চার দিন আগে স্বামী মারা যান, আর সেই দিনেই শ্বশুর ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে নিহত হয়ে লাশ হয়ে বাড়িতে আসেন। এর মধ্যে ইংরেজ সেনারা খোঁজা শুরু করে, দাসীরা সন্তান ও ধন-সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যায়, এবং অসুস্থ অবস্থায় দরজায় সেনারা হাজির হয়। যে সব রাজ কন্যারা পা মাটিতে ফেলতো না তারাই পরবর্তীতে মাটিতে ঘুমিয়েছিল। যারা দাসী পালতো পরে তারাই দাসীতে পরিণত হয়েছিল।
- ঐতিহাসিক বিবরণ: এই বইটি আট জন মোগল সাম্রাজ্যের নারী এবং তিনজন সম্রাট ও গভর্নরের জীবনের দুঃখের স্মৃতিচারণ আলোকপাত করেছে। ইতিহাস ও জীবনের পালা বদলে মানুষের আর্তনাদ তা লেখকের দক্ষ সাহিত্য জ্ঞানে যথাযথ ফুটে উঠেছে। ইতিহাসের কান্না পড়ে পাঠকেরও নিজের চোখের কান্না চলে আসবে।
যারা মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর রাজপরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে নারীদের, করুণ ও মর্মান্তিক পরিণতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এবং ইতিহাস থেকে জীবনের শিক্ষা গ্রহণ করতে চান, তাদের জন্য ‘ইতিহাসের কান্না’ একটি অপরিহার্য ও গভীর চিন্তামূলক গ্রন্থ।
Reviews
There are no reviews yet.