আধুনিকতা: ঐতিহ্য থেকে খোদাকে খারিজ করে দেওয়ার তত্ত্ব ও পাশ্চাত্য দর্শনের মূল্যায়ন
‘আধুনিকতা’ গ্রন্থটি প্রফেসর হাসান আসকারি কর্তৃক রচিত দর্শন বিষয়ক গবেষণা ও প্রবন্ধ বিষয়ের অধীনে প্রকাশিত একটি অত্যন্ত গভীর ও আলোচিত সংকলন। হাসান আসকারি পাক-ভারত উপমহাদেশে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দ্বন্দ্ব-প্রশ্নে জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে শরিক হওয়া লেখকদের মাঝে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রন্থের মূল বার্তা ও আলোচনার ক্ষেত্র:
ঐতিহ্যের সংজ্ঞা: লেখক ঐতিহ্য বলতে বুঝিয়েছেন— “মানুষ, মহাবিশ্ব এবং খোদার ত্রিত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত চেতনা-ব্যবস্থা এবং অস্তিত্ব-বিধানকে।” একজন ঐতিহ্যবাদী তাঁর সমস্যাবলীকে “খোদা, মানুষ এবং মহাবিশ্বের সমন্বিত পটভূমিতে দেখেন” এবং সিদ্ধান্তে “খোদার আদেশকে বিবেচনায় রাখেন।” এখানে খোদা হলো প্রিন্সিপাল পার্সপেক্টিভ।
আধুনিকতার স্বরূপ: লেখকের মতে, “সেই পার্সপেক্টিভ থেকে খোদাকে খারিজ করে দেওয়ার নাম আধুনিকতা।” আধুনিকতার প্রধান মনোভাব হলো “ঈশ্বরকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন করে দেওয়া।” লেখক সতর্ক করেন যে, “মহাবিশ্ব, খোদা এবং মানুষের ত্রিত্ব থেকে খোদাকে অপসারণের কসরৎ আমাদের এখানেও জারি আছে।”
গ্রন্থের উদ্দেশ্য: এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো— “এহেন পরিস্থিতিতে ‘আধুনিকতা’র প্রভাব আমাদের ওপর কীভাবে এবং কতভাবে পড়ছে, আমাদের জন্য তা খতিয়ে দেখার জরুরত আছে।” বক্ষমান গ্রন্থে তারই “সর্বোত্তম খতিয়ান হাজির করেছেন প্রফেসর হাসান আসকারি।”
দ্বিতীয় অংশের বিষয়বস্তু: বইটি তার শৈলীর দিক থেকে “খুবই সহজ এবং অনুসরণীয় একটি বই।” বইয়ের দ্বিতীয়াংশে লেখক “পাশ্চাত্য চিন্তা-দর্শনের প্রায় দুই’শ বিচ্যুতি ও বিভ্রান্তির সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেছেন।”
আদর্শিক গুরুত্ব: লেখকের মতে, এই বিচ্যুতি ও বিভ্রান্তিগুলো দূর করা ব্যতিরেকে ইংরেজি শিক্ষিতদের কাছে দ্বীনের বিষয়াবলী বোধগম্য করানো সম্ভব হবে না। অর্থাৎ, আধুনিকতার বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইসলামের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করাই বইটির অন্যতম লক্ষ্য।
যারা প্রফেসর হাসান আসকারির গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার দার্শনিক দ্বন্দ্ব, খোদা-বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তার স্বরূপ এবং পাশ্চাত্য দর্শনের ভ্রান্তিগুলোর ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘আধুনিকতা’ একটি অপরিহার্য ও মননশীল গ্রন্থ।
Reviews
There are no reviews yet.