‘ঈশা খাঁ’ গ্রন্থটি মোহিম জোবায়ের কর্তৃক রচিত ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ের অধীনে প্রকাশিত ‘এক যে ছিল বাঙ্গালাহ’ সিরিজের প্রথম কিস্তি। এটি ষোড়শ শতাব্দীর বাংলার ইতিহাসে এক মহীরুহের উত্থানের রোমাঞ্চকর উপাখ্যান।
গ্রন্থের মূল বার্তা ও ঐতিহাসিক পটভূমি:
- তুকারয়ের পর বাংলার হাল: গল্প শুরু হয় ১৫৭৫ সালের ৩রা মার্চ তুকারয়ের ময়দানের যুদ্ধের পর। এই যুদ্ধের পর মুঘল আর বাঙ্গালী সালতানাত দুই পক্ষই বিদ্ধস্ত হলেও, বাংলার সেনাপতি গুজর খান নিহত ও সুলতান দাউদ কররানি পলাতক হওয়ায় বাংলা-বিহার বাদশাহ আকবরের অধিকার বলে বিবেচিত হয়।
- মুঘলদের চ্যালেঞ্জ: আকবর সহজে বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু নদী-চর-খাল-বিল আর জলা-জঙ্গলে জড়ানো এই বাংলার দখল নেওয়ার একমাত্র উপায় হলো নৌকা। তাই শত শত রণকোষা আর জাহাজ সাজিয়ে হাজির হলো সুবিশাল নৌবহর—মুঘলদের ‘বাদশাহি নাওয়ারা’।
- ঈশা খাঁর উত্থান: যখন মুঘল সেনাপতি ‘মির বহর’ শাহ বরদি ভাবছিলেন দখলটা জলবৎ তরলং হবে, তখনই গভীর ব্রহ্মপুত্রের কালচে সবুজ জলে সে বিশাল সাম্রাজ্যবাদী নাওয়ারার পথ আটকে দাঁড়ালেন সরাইল পরগনার ক্ষুদ্র জমিদার।
- কিংবদন্তির জন্ম: এই অসমসাহসী প্রতিরোধ থেকেই জন্ম নিল এমন এক কিংবদন্তি—ঈশা খাঁ, যিনি লোকে ডাকতেন মসনদ-ই-আলা। তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে বাংলার বারো ভূঁইয়াদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং বাংলার স্বাধীনতা রক্ষায় অসাধারণ বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। লেখক তাঁর অসমসাহসী উত্থানের সেই গল্পটিই উপন্যাসের প্রথম কিস্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
যারা ষোড়শ শতাব্দীর বাংলার গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুঘলদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসলিম শাসকদের প্রতিরোধ এবং কিংবদন্তি মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর বীরত্বপূর্ণ জীবন সম্পর্কে ঐতিহাসিক উপন্যাসের মাধ্যমে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘ঈশা খাঁ’ একটি অপরিহার্য ও রোমাঞ্চকর পাঠ।









Reviews
There are no reviews yet.