‘খিলজি শাসন’ গ্রন্থটি হুসাইন আহমাদ খান কর্তৃক রচিত ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ের অধীনে প্রকাশিত একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণাত্মক সংকলন। এই বইটি ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত তুর্কি-আফগান বংশোদ্ভূত মুসলিম খিলজি রাজবংশের ইতিহাস, তাঁদের বিজয় ও পতনের কারণসমূহের ওপর আলোকপাত করে।
গ্রন্থের মূল বার্তা ও আলোচিত শাসকগণ:
রাজবংশের পত্তন: বইটি ১২৯০ সালে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে সুলতান জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি কর্তৃক এই রাজবংশের পত্তনের ইতিহাস দিয়ে শুরু হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত নরম মেজাজের শাসক।
শ্রেষ্ঠ শাসক আলাউদ্দিন খিলজি: জালালউদ্দিনের মৃত্যুর পর ১২৯৬ সালে সালতানাতের শাসনভার গ্রহণ করেন সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি, যিনি ছিলেন এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক।
রাজ্য বিস্তার ও সমৃদ্ধি: সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি রাজ্যের সীমানা বিস্তৃত করতে মনোনিবেশ করেন এবং বহু যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন। এসব বিজয়ের মাধ্যমে প্রচুর ধন-সম্পদ হস্তগত হয়, যা তার রাজ্যকে করে তোলে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী।
প্রশাসনিক দক্ষতা: আলাউদ্দিন খিলজি একজন দক্ষ সেনাপতি হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন অভিজ্ঞ শাসক ও রাজনীতিবিদ। তিনি তার রাজ্যের জন্য অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করেন, করব্যবস্থার সংস্কার করেন, চিরতরে বন্ধ করেন বিদ্রোহের পথ। তাঁর শাসনামল ছিল শক্তি, ন্যায় ও সমৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পতন: আলাউদ্দিন খিলজির (মৃত্যু ১৩১৬) পর ক্রীতদাস মালিক কাফুর এবং তাঁর ছেলে সুলতান কুতুবউদ্দিন মোবারক শাহ খিলজি কিছুদিন শাসন করেন। মোবারক শাহের নিহত হওয়ার পর খসরু খানের হাত থেকে দিল্লি সালতানাত চলে যায় তুঘলকদের কাছে, এবং এভাবেই শেষ হয় খিলজি শাসন।
যারা ভারতের মধ্যযুগের ইসলামি ইতিহাস, দিল্লি সালতানাতের খিলজি রাজবংশের উত্থান, বিশেষ করে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সামরিক বিজয় ও প্রশাসনিক সংস্কারের বিস্তারিত বিবরণ জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘খিলজি শাসন’ একটি অপরিহার্য ও জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ।
Reviews
There are no reviews yet.