উসমান ইবনু আফফান (জীবন ও শাসন): খলিফার সরলতা ও উম্মাহর রক্তের সুরক্ষা
‘উসমান ইবনু আফফান (জীবন ও শাসন)’ গ্রন্থটি ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী কর্তৃক রচিত সাহাবীদের জীবনীভিত্তিক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গবেষণামূলক সংকলন। বানান ও ভাষারীতিতে মাকামে মাহমুদ-এর নিয়ম অনুসৃত হয়েছে।Read More
গ্রন্থের মূল বার্তা ও উসমানের (রাযি.) অবদান:
- প্রজন্মের ঔদাসীন্য: লেখক আফসোস করেছেন: “আমরা বর্তমান প্রজন্মের মুসলিমরা সমাজ ও জীবন-বিধ্বংসী নায়ক-গায়ক, খেলোয়াড়-মডেল কিংবা হালের প্রতাপশালী শাসকদের সম্পর্কে যতটা জানি, খুলাফা রাশিদুনের মহান ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে ততটাই কম জানি।” এই ঔদাসীন্যের সাথে মুসলিম উম্মাহর সার্বিক অবস্থার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
- শ্রেষ্ঠত্বের উত্তরাধিকার: আবু বাক্র উমারের পর উসমানই ছিলেন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি ছিলেন যুন-নুরাইন (দুই নূরের অধিকারী)। খলিফা উসমানের অন্তরে যে আল্লাহভীরুতা, মনের যে সরলতা, উম্মাহর যে কল্যাণকামিতা এবং ব্যক্তিত্বে যে মূর্ছনা ছিল—সেসবের কাছে এই উম্মাহ চিরকাল ঋণী।
- ফিতনা ও শাহাদাত: তাঁর সততা, সরলতা আর নিজ রক্তের বিনিময়ে উম্মাহর রক্তের সুরক্ষা প্রদানের মানসিকতার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা সেই দুর্বৃত্তি শুরু করল, যা আজ পর্যন্ত তাঁর অবসান হলো না। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করেননি, কেবল উম্মাহর রক্তের প্রতি তার অকুণ্ঠ দায়িত্ববোধের কারণে। তাঁর নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে যে ফিতনার মধ্যে উম্মাহ পতিত হয়েছে, আর তা বন্ধ করা যায়নি—আজও।
- আগামীর প্রত্যাশা: ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী-এর এই গ্রন্থটি উসমান ইবনু আফফান (রাযি.)-এর জীবন, খিলাফতকাল, তার সময় সংঘটিত ফিতনা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছে। লেখক কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেন: “এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনীর আলোকচ্ছটা যেন সর্বপ্রথম আমাদের এই জাতিকে উদ্ভাসিত করে। এর হাত ধরে যেন আগামী দিনে খিলাফাত আলা মানহাজিন নুবুওয়্যাহ ফিরিয়ে আনার মতো যোগ্য নেতৃত্ব বেরিয়ে আসে উম্মাহর কল্যাণ সাধনে।”
যারা হযরত উসমান ইবনু আফফান (রাযি.)-এর জীবন, খিলাফতকাল, ফিতনার মোকাবিলা, উম্মাহর প্রতি তাঁর ত্যাগ ও মহানুভবতা এবং ইসলামী নেতৃত্বের আদর্শ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘উসমান ইবনু আফফান (জীবন ও শাসন)’ একটি অপরিহার্য ও মৌলিক গ্রন্থ।
Reviews
There are no reviews yet.